জয়া গোস্বামীর তিনটি কবিতা--
স্মৃতি স্মরণে
কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে মনের গভীরে আজিকে.
এলোমেলো হাওয়া এসে শুধু স্মৃতি স্মরণে আসে
ঝড় তুলে বিরহ মনের ভাঁজে আপন সুরে...,!
দেয় পুরানো ঝরে পড়া স্মৃতি দের...!
কি করে তাদের আজ দূরে সরাই বলি আমি কাকে !
কেটে গেল কত যে দিন রাত্রি পথ চেয়ে চেয়ে!
তাদেরই আজ আনাগোনা গভীর নিশিথে..!
কেউ আসে স্বপ্নে কেউ আসে মনের গভীরে ...!
এসে করে কোলাহল রাত্রি নিশিথে খাতার পাতাতে
উল্টাতে থাকে নিজে থেকে ...!
সবাই আসে চোখের পাতায় করে হুটোপুটুি ইচ্ছেতে..!
সকল বাসনা দিলাম ফিরিয়ে নিবিড় করেছি
আজ আঁধারকে ...!
ভোলা যায়না স্মৃতি নীরবে রয়ে যায় হৃদয় মাঝারে !
কাটছে প্রহর আজ কাকে বোঝাই চোখের জলে...!
গভীর রাতে নামলো হৃদয়ে প্রলয় ঝড় আর নয়
থামাবে কে?
মনকে বোঝাই, কত কী যে সান্তনা দিই নিজে নিজে !
অভিমানী অনুভূতির চাপে হয়েছি একা আমি যে !
জীবনের ছিন্নপতায় কি লেখা আছে....!
অমলিন হয়ে আছে এখনো সেই মুখখানি মনেতে!
কুয়াশার আঁধারে অভিমানী অভিযোগ সব ঝড় তোলে একই সাথে....!
একলা নীরবে ঝরায় অশ্রু মন খারাপের রাতে..!
মন ভাঙ্গার গল্প কেন গাঁথে শুধু ঘুমের দেশে ...!
ভাঙ্গা গড়ার খেলায় আজ বড়ো ক্লান্ত লাগে .. !
আবেশে কত রাত জেগে স্মরণ করি মনে মনে . !
ডাকি তোমায় যদি আবার আসো আমার হৃদয় মন্দিরে....!
২
মায়াবী তিস্তা
প্রথম যে দিন তিস্তা আমি দেখেছি তোমাকে,
প্রেমে পাগল করেছো কবির হৃদয়কে..
কি রূপে করেছো শোভা দান আজিকে!
সবুজ বন বীথি পর্বতের গা ঘেঁসে চলেছে,
আপন ছন্দে বয়ে চলেছো হেলে দুলে,
মনোরম তুমি অনন্যশোভাতে শব্দ তুলেছো ঝঙ্কারে,
রূপময়ী অনন্য ছন্দ তুলেছো কবির মনে,
আমি তো তোমার কাছে আসি বারে বারে,
তোমার রূপ হয় অতি মায়াবী পূর্ণিমা রাতে,
মনোরম তোমার শোভাতে আমি মুগ্ধ নয়নে ,
চেয়ে থাকি কখনো ছন্দ পতন হবে ভেবে ,
আমার খাতার পাতায় আছড়ে পড়বে,
আশ মেটেনা বারে বারে ছুটি তোমাকে দেখতে
দেখার নেশায়,আসি তোমারই কাছে ,
তিস্তার জলের শব্দ কেবলি কবি মনে ,
ঝড় তোলেবিরহে এর কী সুর ভাঁজে আপন মনে !
বুঝতে পারিনা নুড়ি গুলো পাহাড়ের কোলে ,
তোমার জলের কি এক তরঙ্গ তোলে।
অপরূপ খেলা করে কবির দুচোখে আপন ইচ্ছেতে!
তোমাকেই দেখি তিস্তা রূপালী সকালে!
সোনালি বিকেল তোমার রূপে মোহিত হয়ে!
মায়াবী নেশা লাগে মনে খুব ইচ্ছে হয় কাছে
যাই ছুঁতে !
চেস্টা করি পারিনা তিস্তা তোমাকে ভুলতে ...
কুয়াশার চাদরে মুড়ে যায় আমার হৃদয় আবেশে....
পারি না অন্তরে গহিনে যে ব্যথা আছে লুকানো
সেটা লিখি খাতার পাতায় মনের খিদেতে..,
আরও কতকি বলি তোমায় তিস্তা আমাকে
ঘুম ভাঙ্গিয়ে দাও খাতার ভাঁজে ভাঁজে এসে ...
**************************************
৩
গভীর রাতে কুঞ্জবনে
জয়া গোস্বামী
নিত্য আমার যাওয়া আসা তোমার মনের মন্দিরে,
রঙ লাগাবে বলে কত করি আয়োজন বৃথা
থাকে পড়ে...
মনকে বোঝাই, কত কী অভিমানী অনুভূতির চাপে
জাগে শুধু সংশয় , জীবনে পাবো না কী কভুও তোমার দেখা?
আমি না করি ছলনা তোমার সাথে !
আমায় তুমি হারাবে না সেটা জানি মনে মনে!
অন্ধকারের মাঝে আমায় চিনিবে আজকে!
আমায় তুমি হারাবে না বুঝেছি আজ রাতে!
আপন হাতে দিলাম প্রদীপের আলো নিভিয়ে ,
অন্ধকারে নেবো চিনে আজ তোমাকে...,
জীবনস্বামী তুমি যে আমার আসো কুঞ্জবনে অন্ধকারে
নুপুর বাজে রুনু ঝুনু শুনতে পাই গভীর রাতে,
বিছায়ে দিই জুঁই ,বেলী ,কেতকি ,তোমার পথে,
তুমি বুঝতে পারো ঠিক আমার হৃদয় স্বামীযে,
ছলনা আমার সাথে আর না আজ আসবে ...
বসে রই আধোঘুমে নিশি ফুরালে গভীর রাতে
আসবে বলে...
কুঞ্জ সাজিয়েছি আজ আমি নিজের হাতে...
ধরবে দুই হাত এসে তুমি এলে আজ আমার
ভাঙ্গা ঘরে ,চাঁদের আলো ঝলমলিয়ে উঠবে...
আদি অন্তকাল ধরে চেয়ে আছি তোমার চরণপাতে ,
আমারি কুঞ্জবনে আসবে আজ গভীর রাতে,
বাজাবে মোহন বাঁশি আপন সুরে আমার তরে,
আসবে শ্যাম আজ কুঞ্জবনে দেরি আর সয়না যে !
তোমার মুখপানে চেয়ে সুখস্রোতে ভাসিবে ,
শ্যাম বিনা অধরা বোঝাই আজ কি করে!!!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন