নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--
স্বপ্নময় আনন্দ
স্বপ্নময় আনন্দ উৎস হতে,
প্রবাহিত যে অমলিন ধারা
কচি কোমল মুখে,
সতৃষ্ণ চোখে বিশ্বভুবন হরা।
আজকের শিশুর সেই হাসিটি
কষ্ট কঠিনে জাগে,
বদ্ধ জীবন রুদ্ধশ্বাস
সভ্যতার আগে।
ঘরের কোণে বসে কঠোর শাসনে
কেবল পড়া পড়া,
অবাধ সবুজ মাঠ
হাঁপিয়ে ওঠে একা--
কচি পায়ের আগল ভাঙ্গা
পথ রয়ে যায় ফাঁকা।
অতি বাধ্যের চাপে
কেবল ভাঙ্গে মন,
জীর্ণশীর্ণ ভবিষ্যতের
রচে ব্যর্থ জীবন।
পায় না গৃহ, পায়না সমাজ,
পায় না স্নিগ্ধ মন,
যন্ত্র জালের আবেস্টনে
যান্ত্রিক জীবন।
ক্ষমা
আমাকে সকালেই জিজ্ঞাসা করে ছিল কাঁঠাল পাড়ার মেয়েটি,
কাকু, তুমি কি সহরে যাবে ?
আমি অত্যন্ত স্পষ্ট করেই বলেছিলাম, হ্যাঁ।
খুব উৎসুক হয়ে ও বলেছিল,
আমার খুব যাওয়ার ছিল
আমার নিরুত্তর মুখের দিকে তাকিয়ে
ও একেবারে ভেঙে পড়েছিল,
ভাঙ্গা ভাঙ্গা মুখ চোখে,
ব্যথার কালো ছায়া।
আমি ভ্রুক্ষেপ করিনি তাতে
ভুলিনি ওসব উৎপাতে,
সুট কোট বুট বাটে
বেরিয়ে গেলাম দাপটে।
সন্ধ্যার কাছাকাছি
শহর থেকে যখন ফিরছি
আবার দেখা পথমাঝে,
শহরের প্রায় কাছে
কাঁঠাল পাড়ার সেই মেয়েটি,
সারা শরীর জুড়ে ক্লান্তির ছায়া
রোদ পোড়া পোড়া মুখে
খুদা কাতরতা,
তবুও ছুটে চলেছে সে
পায়ে পায়ে পৌঁছানোর তীব্রতা।
আমাকে দেখলো এক পলক
ফিরিয়ে নিল মুখ,
আবার সে ছুটল
বুকে চেপে দুঃসহ দুঃখ।
আমি খানিকটা ধাক্কা খেলাম
নিজের ভিতর
হয়ত এই প্রথম
পরে জেনেছিলাম
তার বাবা অসুস্থ
হাসপাতলে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন