মুরারি সিংহের দীর্ঘ কবিতা--
হরীতকীর সমস্ত রীতি-নীতি ও সংস্কার
মেনে
পুঁইপাতারকক্ষপথে ছুটে চলেযেচিকেনস্যান্ডউইচ-লিখিত
রবিবার
তার মনের খবর আর কেই-বা রাখে
আদিম ধ্বংসের রেণু গায়ে
মেখে
কেই-বা টেস্টটিউব-বুদ্ধের
চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে
হ্যাঁ-গা,বৈশাখ ও কৃষ্ণচূড়ারডাকনামের ডানায়
সেই কিমেলে ধরেছেএতরক্ত-চলাচল
আয়ুর মধ্যে নোঙর ফেলেছে ঝাউবন, ফেলেছে তো ফেলেছেই
বকসিগঞ্জের হাটে হাঁটু-ভাঙা চাঁদমালারমজুরি নিয়ে ডামাডোল বেড়েই চলেছে
বিসর্গ-সন্ধির ভিতর বাসাবাঁধাকোলাব্যাঙেদেরশীতঘুম পাতলা
হচ্ছে খুব
তুমি কি ভাবছ বানানভুল জমিয়ে জমিয়ে রজনীগন্ধার মালা গাঁথবে
তুমি কি ভাবছ অন্ধ-ভিখিরির আধারকার্ড নেই বলে
এবার বর্ষায় একটাও কদমফুলফুটবে না
শীতের হাওয়ায় পাতাঝরা নিশ্চিত জেনেও অস্পষ্ট প্রজারা কেন
তবে
রোজদিনতাদের খুদকুঁড়ো বদলায়
কেটে-যাওয়া-বাল্ব, ঔপনিষদিক-খিদে, সিঁড়ি-ভাঙা-জাঁহাপনা,
প্রত্যেকেইচাইছেসে-ই প্রথম
নীল পোয়াতির চিদাকাশে সবুজ ঘুড়ি ওড়াবে
মহীষাল-বন্ধুর নশ্বরতায়এত ছড়াছড়ি, এত গড়াগড়ি, এত বাড়াবাড়ি
বাইফোকাল রোদে জীবন সম্পর্কে লঙ্কাজবার
অভিজ্ঞতাও তো কম বাড়ছে না
ঘোড়ারোগের ডালে ডালে বিস্তর যোগাভ্যাস ধরে আছে
তাদের কাছ থেকে ধার করি নৈশমেঘ, ছাতা ও বৃষ্টি
জীবন-যোদ্ধাদের চারপাশে হেঁকেওঠা কতযে স্কুল-পালানোপথঘাট
মানুষ, ও মানুষ, তুমি কি করছ, টিনএজার চাঁদের কথা কিছু ভেবেছকি,
বাতাস থেকে ছিটকে পড়ছে কত মাংশাসী, দেখছ না
এ তো আরপ্রেক্ষাগৃহের নীল আলোমাখাকোনো চতুর বায়োস্কোপ নয়
বাইশ-গজে ঝরানো ঘামগুলো কি সব ভুল হয়ে গেল
ধনেপাতা-পুদিনার
নাট্যশালায় কেমন যেন একটা পিঙ্কি-পিঙ্কি ভাব
হাতের
ঠোঙায় গরম জিলিপি নিয়ে
অলীক ব্রহ্মচর্য পালন করতেনাহয়
নাই পারলে,
তাই বলে কি বাস্তুভিটেরঅ্যালজেব্রাটাকে চুল-গজানোর ওষুধ
বেচবে না
ওই যে ভোরের লিপস্টিক তাকে বরং কিছু মূল্য ধরে দাও
মোমবাতির সংদোষ কাটাতে
আমি নাহয় কালবৈশাখি ও স্ক্রু-ড্রাইভারেরভেলায় চেপে
কমলালেবুর জ্বর হব
লাল আপেলের জ্বর হব
মেরি-বিস্কুটের
জ্বর হব
ঘোলাজলকেউৎসর্গ করা লীলাকীর্তনের আসরে
জ্বরে ভেজা
ধনেপাতা হব
অথবা তুমুল নিশিডাকেভেজানোঘরে-ফেরা গোলমরিচ হয়ে
গাছ-আয়নার সামনে এসে দাঁড়াব
সাহসী অষ্টাদশীর সঙ্গে গভীর অ্যালাপেমজে
একটি আধশোয়াশীতকালের পাতা উলটিয়ে দেখব
অবারিত আকাশের নীচে
কাঁথার-আগুন ও নাগরিক সমাজ
কীভাবে মাধ্যাকর্ষণ
থেকে ক্যাজুয়াললিভ নিয়ে
অসবর্ণপ্রেমকথায়
ব্যঞ্জন-বর্ণের বাহুল্য নিয়ে আলোচনা করছে
হাড়-হাভাতেদের
নৈমিষারণ্যে এত যে কথা-ফুল ফুটছে,
নিশ্চয় ভাবছ
তাদের কোনটা সত্যি
আর কোনটা মিথ্যে
আরে অত ভাবার কী
আছে,
যদি হংসমিথুনেরপাললিক
উৎসবে যোগ দিতে চাও
তবে সত্যি-মিথ্যের
হিসেব পাশ কাটিয়ে এদিকেএসো, দেখো
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছোলাফুল-বিরচিতমুসাফিরখানায়
ঘটপুজোর সঙ্গে কেমন কেটে
যাচ্ছে সারাদিন, ঘটকঠাকুরের
নামাবলি জুড়ে
বেগেনভেলিয়ার হাসি যেন স্তন্যপান হয়ে পতাকা নাড়ছে
শুশ্রূষাময়কমলালেবুদের আমিষ-রঙে দীক্ষিত করে
বোবারাত্রিরপরাগমিলনও খুব গুমখুন মেখেছে
ধানকাটার মাথায় মহুয়া আকাশ থেকে
কে যেন ধার করে এনেছে
অনর্গল কাচের চুড়ি ভেঙে পড়ার শব্দ
সোনার পাথরবাটিরবার্থ-সার্টিফিকেটে সদলবলে প্রবেশ করেছে
বিসর্গ-সন্ধির অশ্রুবাদল
তোর্ষা-নদীর তীরে বসে যারা
মেঘলা তানপুরার তারে লিখতে চাইছে খিদে-তেষ্টারপ্রাকৃত সংবিধান
পরমাণু-বোমার চিৎ-হয়ে শুয়েথাকাটিকেঘিরে
তাদের লীলাকীর্তন দেখি আর থামতেই চায় না
এক হাজার শীতলা-ষষ্টীর মাঝখানে আজ
পাশবালিশের সজনেডাঁটা-মার্কা তপস্যাতবে সফল হোক
সফল হোক কাজললতার সঙ্গে হামাগুড়ি টানা জোনাকিদের স্যাটেলাইট
লিরিল-সাবানের ফেনা দিয়ে লেখা হোক গোলাপি জলের খালবিল
এসবের মাঝেই একদিন
মাঝনদীর দিকে প্রবাহিত পথের-পাঁচালিটিকেঘিরে গড়ে উঠবে
নিরক্ষরতা-অপেরার দই-চিঁড়েমিটিয়ে দেওয়া রূপকথা

নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর এক কবিতা। প্রখ্যাত কবি -সম্পাদকের লেখা চমৎকারী একটি লেখা। ধন্যবাদ কবিকে।
উত্তরমুছুন