বহ্নিশিখার তিনটি কবিতা--
বেশি বুঝো"
বললে, একটু বেশিই বুঝো।
ভালোবেসে নয় তিরস্কার।
তাই বাধ্য করলে বলেই বলছি--
হ্যাঁ,আমি একটু বেশিই বুঝি।
যদি নাই-ই বুঝতাম তাহলে তোমার মা'র জন্য ওষুধ আনবে---
সে কথা আমাকে বলতে হত না।
যদি একটু বেশি নাই-ই বুঝতাম আমাকে বলতে হত না--মেয়ের বিয়ে দাও।
একটু বেশিই না বুঝতাম বলতাম না,
নিজের প্রশংসা শোনে গদগদ হ'য়ো না,
নিশ্চিন্ত মনে যাকে দায়িত্ব দিয়ে চলে যাও -আড়ালে সে অন্য।
আর সবার মতো স্বার্থপর হতে পারিনি -
তাই দু'পায়ে শুধু মাড়িয়েই যাও
------------
এমন কিছু বলো না"
এমন কিছু বলো না,
যা শোনে একবেঞ্চিতে বসার আগ্রহটা মরে যায়।
হার্দিক টানে দেখতে আসা মনের উচ্ছ্বাসটুকু যদি না-ই থাকে --
তবে কেউ কাছের নয় কারোর।
প্রেম রয়ে যায় দেশান্তর।
কথার ফাঁকে টুপটাপ দু'একটা বাদাম ছুড়ে দেয়া আর,
ওড়ে যাওয়া পাখির ডানায় চোখ রেখে--মনের কথা বলে যাবার মতো স্নায়ুবিক সাবলীলতা থাকতে দিয়ো।
এটুকু তো রাখতেই হয় মনকে চেতনায় জাগিয়ে রাখতে।
এমন কিছু করো না যাতে--
পারফিউমের মিষ্টি গন্ধটা --বিষ্টার সমতুল্য হয়ে---
কাছে আসার আনন্দটাই--না মাটি হয়ে যায়।
--------------------
সুযোগ"
হঠাৎ জেগে ঘুমচোখে পাশের জনকে দেখতে না পেলে- প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে।
সমুদ্র জলের গভীরে যেমন ঘূর্ণি তোলে ঠিক তেমনই ঘুরে ওঠে মগজ-মন ।
বকুলের স্নিগ্ধ সতেজ মুগ্ধতা কিংবা গোলাপের মোহময়তা না-ই থাকলো--
প্রাত্যহিকী সারার মত কর্তব্যে বোধের পরিধি বেড়ে যাক--
নয়ত ফিরে এসে কিছু বলার মতো সুযোগ পাওয়া-নাও যেতে পারে।
----------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন