তাপসকিরণ রায়ের একগুচ্ছ কবিতা--
১
বুদবুদ
অন্ধকার…
আসলে উতলা হবার পর
মোম আলো নিভিয়ে দাও তুমি।
সমস্ত আলোড়নের মাঝে
এক দিব্যদৃষ্টি ফুটে ওঠে।
আসলে আমরা কাল্পনিক,
ধর্ষিতার সামনে মোলায়েম ভালবাসার
বেশাতি খুঁজি।
জনম শ্যাওলার নীচে
রঙিন মাছের আনাগোনা চলে--
শ্যাওলা সবুজ ছাতির নীচে
যে বুদবুদ উঠে আসে--
জীবনকে সেখানেই খুঁজে ফিরি।
২
ছায়া
একটা ছায়া মুখরিত হচ্ছিল--
মুখরতার মাঝে একটা ছায়া
তোমার আমার আদল ধরে রাখতে চাই ছিল।
এটাই বুঝি সৃষ্টির নিয়ম--
ছায়া সত্ত্বায় মিলিয়ে যায়,
আবার সত্ত্বারা ধীরে ধীরে ছায়াকৃতি নেয়।
অন্ধকার বড় আড়াল,
তাই বুঝি রাতের আকাশে
তারাদের আলোক মেলায়
সমস্ত পৃথিবীর আঙিনায়
এক অলীক ঝlলর নেমে আসে.
কখনো পৃথিবীর এই বেসতি হাটে
কিছুই বিকোয় না l
৩
পূজা
অনায়াস মুক্তির আয়োজনে তোমার এই পূজা,
তোমার এই ধূপধুনা আচ্ছন্ন এই উঠোন,
নদী সমুদ্রের সঙ্গমে একাকার মগ্নতা,
একাত্ম থেকে ভেঙে ভেঙে আমাদের
ছায়া-কায়ান্তর ঘটছে l
জন্ম-মৃত্যুর মাঝে
জীবন কেমন ছায়ামগ্ন হয়ে থাকে দেখো !
৪
স্মৃতিগুলি আমার বুক
স্মৃতিগুলি আমার বুক,
ক্রমশ সময়ের সীমারেখা
ধূসর ধোঁয়া হয়ে উঠে যাচ্ছে স্মৃতির দেয়াল।
ভুলে যাবার ভয়ে সৃষ্ট কোনো স্মৃতিস্তম্ভ হয়
তবু ধুলোমাটির পর্বত এবং একদিন
সে সব ঘষে-মেজে একাকার নামহীন।
তুমি তোমার আশপাশ ছেড়ে যাচ্ছ
দূরের কথা অচিন, অস্পষ্ট এবং
একদিন সব সমাপ্তির মাঝে আমি আর নেই,
তবু কিছুদিন আমার গামছা টানানো থাকবে
বারান্দার কোন এক নির্জন ছায়া কোনে।
এক দিন স্মৃতি তুমি সরিয়ে দেবে,
যে নেই, তার স্মৃতি ভয়াবহ হয়।
তোমার একান্ত সে আপনজন
ভ্রম স্মৃতির ধোঁয়ার মতো সরে যায় মনের অন্তরাল।
৫
সময় লালায়িত হয়ে যাচ্ছে
অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যেতে পারে
রাতের দুঃস্বপ্ন থেকে তুমি উঠে এলে
বাস্তবে কিছু সুখ-দুঃখ মিশে থাকে
চৈতন্যহীন মৃত্যুর কাছাকাছি এক ম্রিয়মান স্বপ্ন।
পৃথিবীর অফুরান ভূমির উপর একাত্ম তুমি,
তোমার ছায়া, সেখানে নগ্নতার ছবি নেই,
সেখানে আশা আনন্দের আকাঙ্ক্ষা নেই
সেখানে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ নেই,
সেখানে নীল ভালোবাসা নেই, সেখানে লাল গোলাপ নেই,
সেখানে অনন্ত কাল থেমে আছে,
সেই বিরান মাঠে সময় লালায়িত হয়ে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন