সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়--

সময় চলে যায়--সুখ দুঃখ বেদনার জীবনান্তর ঘটেl দেখতে দেখতে আমাদের স্বরধ্বনি পত্রিকা তৃতীয় বছরে পড়ল। জীবনের সঙ্গে সঙ্গে মনের ভাবনা স্মৃতিচারণের খেলা মনের মাঝে প্রকৃতির মাঝে হয়েই চলে। আর তাই তো কবি লেখকদের কলমে উঠে আসে কখনও গ্রীষ্মের দাবদাহ কথা, বৈশাখের ভাংচুর ঝড়-ঝঞ্ঝার রুদ্ররূপ আবার মনের শ্রাবণ-ভাদর কাব্যধারা--কারো হাসি, কারো কান্না, কারও বিরহপ্রেমের ঝর্ণাধারাই তো মিলেমিশে আজের এই পৃথিবী চলছে।

এ ভুবন তুমি ধরে নিতে পারো, তোমার দু হাতে, তুমি তোমার দু’মুঠোর মাঝে এ আকাশ ধরে আছো। আমাদের ভাব-ভাবনার আচঁড় এবার এভাবেই উঠে এলো আমাদের বর্তমান স্বরধ্বনি সংখ্যায়। আসুন, পড়ে দেখুন, কত না ভাবনাধারা এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আর এই ভাবনাজট থেকেই চাইলে আপনার মনমত মিলমত ভাবনাকে খুঁজে পেতে পারেন এসব কবিতার মধ্যে দিয়ে।

আমরা প্রেম-বিরহ সুখ-দুঃখ ত্যাগ-ভোগ গ্রহণ-বর্জন সব ভাবধারায় আঁকতে চেয়েছি, সবার ভাবনাকে ছুঁয়ে দিতে চেয়েছি। কতটা পেরেছি সে প্রশ্নের উত্তর তো আপনারা, সমস্ত পাঠকবর্গ দেবেন। আজ এ পর্যন্ত--নিবেদনান্তে--

সম্পাদক--তাপসকিরণ রায়


সহ সম্পাদকের কলমে--শমিত কর্মকার--

আমরা যেমন বর্ণালোক বের করছি অণু গল্পের জন্য, তেমনি আবার স্বরধ্বনি কবিতার জন্য। আমার দুটোই দুমাস অন্তর অন্তর বের করছি। যাতে করে ভিন্ন স্বাদের পাঠকদের সুবিধা হয়। কারুর কবিতা বেশি ভালো লাগে, আবার কারুর গল্প। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভিন্ন স্বাদের গল্প কবিতা পাঠকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। আমাদের ব্লগ পত্রিকা আপনারা যত বেশী পড়বেন ততবেশী আমরা উৎসাহিত হবো। তার সাথে সাথে আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।


সহ সম্পাদকের কলমে--সাবিত্রী দাস--

সময় থেমে থাকে না, নিজস্ব নিয়মের বন্ধনে সময় গড়িয়ে যায়। এই তো পেরিয়ে এলাম এক গৌরবময় দিন। আপামর ভারত বাসীর কাছে এ দিনটি বড়োই গৌরবের ! অফুরান আনন্দ আর উদ্দীপনার অনুভূতি নিয়ে আসে। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের ১২৫ তম জন্মদিনটি দিকে দিকে মহা সমারোহে উদযাপিত হয়ে গেল। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পাতায়, জাতির জীবনে তাঁর অবদানের কথা খোদাই হয়ে রয়ে যাবে আমরণ।

স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়াই তো বড়োই গৌরবের বিষয়, স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে ভাষারও । বিশেষতঃ তা যদি শুধুমাত্র মুখের ভাষা না হয়ে বুকের ভাষা হয় তখন সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বুকের রক্ত দিতেও পিছপা হয় না। এমনি আরেক লড়াইয়ের দিন, গৌরবময় সাফল্যের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি । বাংলা ভাষার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রফিক, আবদুল, জব্বার, অহিউল্লাহর মত অকুতোভয় বীর সন্তানেরা।

***********

আকাশের নীলে সাদা মেঘের দল

পাল তুলে বেড়াবে না বুঝি আর !

রৌদ্র-ছায়ার লুকোচুরি খেলা !

টুপ টুপ করে শিউলিও ঝরবে না কোনোদিন

মুখের ভাষা যদি বুকের ভাষা না হয় ।

রাতের শিশির টুপ টুপ,

কেঁদে যাবে নীরব নিশ্চুপ


বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

তাপসকিরণ রায়ের একগুচ্ছ কবিতা--


 

তাপসকিরণ রায়ের একগুচ্ছ কবিতা--



বুদবুদ


অন্ধকার… 

আসলে উতলা হবার পর

মোম আলো নিভিয়ে দাও তুমি। 

সমস্ত আলোড়নের মাঝে 

এক দিব্যদৃষ্টি ফুটে ওঠে। 

আসলে আমরা কাল্পনিক, 

ধর্ষিতার সামনে মোলায়েম ভালবাসার

বেশাতি খুঁজি। 

জনম শ্যাওলার নীচে 

রঙিন মাছের আনাগোনা চলে--

শ্যাওলা সবুজ ছাতির নীচে 

যে বুদবুদ উঠে আসে--

জীবনকে সেখানেই খুঁজে ফিরি।

 


ছায়া 


একটা ছায়া মুখরিত হচ্ছিল--

মুখরতার মাঝে একটা ছায়া 

তোমার আমার আদল ধরে রাখতে চাই ছিল। 

এটাই বুঝি সৃষ্টির নিয়ম-- 

ছায়া সত্ত্বায় মিলিয়ে যায়, 

আবার সত্ত্বারা ধীরে ধীরে ছায়াকৃতি নেয়।

অন্ধকার বড় আড়াল, 

তাই বুঝি রাতের আকাশে 

তারাদের আলোক মেলায় 

সমস্ত পৃথিবীর আঙিনায় 

এক অলীক ঝlলর নেমে আসে.  

কখনো পৃথিবীর এই বেসতি হাটে

কিছুই বিকোয় না l



পূজা 


অনায়াস মুক্তির আয়োজনে তোমার এই পূজা, 

তোমার এই ধূপধুনা আচ্ছন্ন এই উঠোন, 

নদী সমুদ্রের সঙ্গমে একাকার মগ্নতা, 

একাত্ম থেকে ভেঙে ভেঙে আমাদের 

ছায়া-কায়ান্তর ঘটছে l  

জন্ম-মৃত্যুর মাঝে 

জীবন কেমন ছায়ামগ্ন হয়ে থাকে দেখো ! 



স্মৃতিগুলি আমার বুক


স্মৃতিগুলি আমার বুক, 

ক্রমশ সময়ের সীমারেখা 

ধূসর ধোঁয়া হয়ে উঠে যাচ্ছে স্মৃতির দেয়াল।  

ভুলে যাবার ভয়ে সৃষ্ট কোনো স্মৃতিস্তম্ভ  হয় 

তবু ধুলোমাটির পর্বত এবং একদিন 

সে সব ঘষে-মেজে একাকার নামহীন।  

তুমি তোমার আশপাশ ছেড়ে যাচ্ছ 

দূরের কথা অচিন, অস্পষ্ট এবং 

একদিন সব সমাপ্তির মাঝে আমি আর নেই, 

তবু কিছুদিন আমার গামছা টানানো থাকবে 

বারান্দার কোন এক নির্জন ছায়া কোনে।  

এক দিন স্মৃতি তুমি সরিয়ে দেবে, 

যে নেই, তার স্মৃতি ভয়াবহ হয়। 

তোমার একান্ত সে আপনজন 

ভ্রম স্মৃতির ধোঁয়ার মতো সরে যায় মনের অন্তরাল। 



সময় লালায়িত হয়ে যাচ্ছে


অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যেতে পারে 

রাতের দুঃস্বপ্ন থেকে তুমি উঠে এলে 

বাস্তবে কিছু সুখ-দুঃখ মিশে থাকে 

চৈতন্যহীন মৃত্যুর কাছাকাছি এক ম্রিয়মান স্বপ্ন।  

পৃথিবীর অফুরান ভূমির উপর একাত্ম তুমি, 

তোমার ছায়া, সেখানে নগ্নতার ছবি নেই, 

সেখানে আশা আনন্দের আকাঙ্ক্ষা নেই 

সেখানে কুয়াশাচ্ছন্ন  আকাশ নেই, 

সেখানে নীল ভালোবাসা নেই, সেখানে লাল গোলাপ নেই, 

সেখানে অনন্ত কাল থেমে আছে, 

সেই বিরান মাঠে সময় লালায়িত হয়ে যাচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মধুমঙ্গল বিশ্বাসের একগুচ্ছ কবিতা--

   মধুমঙ্গল বিশ্বাসের একগুচ্ছ কবিতা--  নষ্ট অরণ্যের চিঠি   # ২৯ দুদিকে দুটো বৃক্ষ, মাঝখানে পুকুর  এই আমাদের গোল্লাছুট  একবার বৃক্ষের কাছে যা...