তমা কর্মকারের গুচ্ছকবিতা--
১আমাকে স্পর্শ করোনা
আমি এক দাবানল শিখা
আমায় তুমি স্পর্শ করোনা,
মুহূর্তে জ্বলে ছাই হয়ে যাবে |
আমি এক বিভীষিকা অগ্নি বলয়,
আমাতেই উৎপত্তি আমাতেই লয় |
আমি এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি
ভুলেও তুমি আমার ঘুম ভাঙিও না
তাহলে চারিদিকে জ্বলে উঠবে আমার লেলিহান শিখা |
মুহূর্তে পুড়িয়ে ছাই করে দেবো বন থেকে বনান্তর
পিছুপা হবোনা পোড়াতে তোমার অন্তর|
তাই বলি আমাকে স্পর্শ করোনা তোমায় করছি বারণ
আমাকে জাগিয়ে তুমি হয়োনা পৃথিবী লয়ের কারণ|
আমি কালজয়ী বারুদ আমাকে স্পর্শ করলে
আমি মাতি ধ্বংসের উন্মাদনায়|
আমি বিশ্ববাসীকে আমার অস্তিত্ব বুঝিয়ে দিই তাদের চেতনায়
আমি ঘুমন্ত হলেও নিভৃতে নিরালায় আমি ছিলাম,
আমি আছি, আমি থাকবো চিরকাল|
২
প্রেমের খেলা শেষ
চলেছো তুমি খেলার ছলে নতুন জীবন পথে,
যা পাও সামনে তুমি তাই তুলে নাও হাতে|
গড়ার চেয়ে তোমার ভাঙার নেশা বেশী,
হামেশাই পুরোনো সম্পর্কে তোমার চলে গড়িমসি|
বিছাও তুমি তোমার প্রেমের জাল,
পুরোনো ছাড়ো নতুন ধরো এমনই তোমার হাল|
আমিও তোমার ছিলাম প্রেমের খেলার সাথী
আমায় নিয়ে খেলা শেষ হতেই নিভিয়ে দিলে আমার জীবন বাতি|
আজ হয়েছে আমায় নিয়ে তোমার প্রেমের খেলা শেষ,
তাইতো আমায় ছেড়ে তুমি ধরেছো ছেড়ে আসা তোমার পুরোনো বেশ|
৩
কবিতা চূর্ণ বিচূর্ণ
আজ তুমি আমার মনটা ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলে
না মন ভাঙার কোনো শব্দ হলোনা হলো শুধু শতখন্ড |
যেদিন তুমি আমায় তোমার ভালোবাসার কথা শুনিয়েছিলে,
আমি শুনেছিলাম আমার কান দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে
তোমার আমার দিকে বাড়ানো হাত খানি ধরেছিলাম শক্ত করে |
তুমিই আবার আপন খেয়ালে আমায় তোমার থেকে দূরে ঠেলে দিলে
আমার থেকে অনেক দূরে সরে গেলে |
তবে বলতো কি দরকার ছিল কাছে আসার
এভাবে ছলনা করে আমায় ভালোবাসার|
তোমার দোষে টুকরো হলো আমার হৃদয়
কি বা এসে গেলো তোমার, আমার বাঁধ ভাঙা কাঁদায় |
তা চূর্ণ বিচূর্ণ আজ তুমি আমার মনটা ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলে
না মন ভাঙার কোনো শব্দ হলোনা হলো শুধু শতখন্ড |
যেদিন তুমি আমায় তোমার ভালোবাসার কথা শুনিয়েছিলে,
আমি শুনেছিলাম আমার কান দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে
তোমার আমার দিকে বাড়ানো হাত খানি ধরেছিলাম শক্ত করে |
তুমিই আবার আপন খেয়ালে আমায় তোমার থেকে দূরে ঠেলে দিলে
আমার থেকে অনেক দূরে সরে গেলে |
তবে বলতো কি দরকার ছিল কাছে আসার
এভাবে ছলনা করে আমায় ভালোবাসার|
তোমার দোষে টুকরো হলো আমার হৃদয়
কি বা এসে গেলো তোমার, আমার বাঁধ ভাঙা কাঁদায় |
জেগে ওঠা এসোনা ভূলে যাই আমি কে, কি আমার পরিচয় নারী, নাকি পুরুষ, নাকি বৃহন্নলার প্রতিরূপ ধনী,গরীব মূর্খ জ্ঞানী হইনা যতই খ্যাতিময় তবুও শুধু মানুষ হিসাবেই হোক আমার মনুষত্বয়ের পরিচয় | নিজের কর্মটাকেই যেন মনে করতে পারি আমার ধর্ম বলে | যেন মন থেকে জন্ম নিতে পারি সত্যের কোলে | প্রার্থনা একটাই জীবনের রঙ্গমঞ্চে এসে
অনেক সম্পর্কের রঙ অন্তরে মেখে আমার মৃত্যুর পরেও যেন
ধরিত্রীর বুকে মনুষত্বের ছাপ যেতে পারি রেখে| সংসারে এসেছি সেজেছি নানা সময়ে নতুন নতুন সাজে মন দিয়েছি সংসারের সাথে সুস্থ সমাজ গড়ার নতুন কাজে | বলতে পারো নাম, যশ, না অর্থ কিসের আশায় পশু ভূলে যায় তার পশুত্ব অভুক্ত থেকেও বাঁচায় | ডাস্টবিনে মানুষের মনুষত্ব ভূলে ফেলে যাওয়া তিনদিনের শিশুকে| তবে আমরা কি পারিনা নিজেদের ব্যাক্তি স্বার্থ ভূলে নিজেরাই জেগে উঠতে মনুষত্বের কূলে |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন